words per minute
7
Typist_2736570
00:00
Speed
তিনি বড় করে হাই তোলেন, ওপরের ঠোঁটের রক্তবিন্দু তাঁর খোলা মুখে ঢুকে যায়, দুপাটি এবড়োখেবড়ো দাঁত বের হয়ে আসে। তিনি একটু পেছনে সরে পিঠ সোজা করে বসেন। প্যান্টের পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে দেন। আমি জানি সেটা কিসের লিস্ট, সেখানে যারই নাম আছে, তাদের নিকাশ করে ফেলতে হবে চিরদিনের জন্য। কোনো প্রশ্ন, কোনো দ্বিমত না করে।
আমরা বসে আছি কাঠের পাল্লার জানালা আর পাথরের দেয়ালঘেরা একটা ঘরে। এ রকম তিনটি ঘরের একটি থেকে বসের জন্য আধা সেদ্ধ খাবার রান্না হয়ে আসে। পাথরের দেয়ালের ঘরগুলো হয় বিশেষ আলাপ আর মাংস কামড়ে কামড়ে খাওয়ার জন্য। এগুলোর সামনের দিকে আছে সরকারি আচরণবিধি অনুসারে সাধারণ আলাপ করার আর কম দামি কফি খাওয়ার একটা অফিস। সেবা গ্রহণকারী আর সংবাদ সংগ্রহকারীরা সেখানে আসে, আমরা আসি বিশেষ আলাপের ঘরে।
আমার লিস্ট দেখার কোনো প্রয়োজন ছিল না, তবু দেখি। লিস্টের কয়েকটা নাম চেনা, তাদের কেউ কেউ আসলে কালো না, সাদাও না, তারা ধূসর রঙের মানুষ। কিন্তু আমাদের নিয়ম হচ্ছে এ রাজ্যে ধূসর রঙের কোনো মানুষ থাকতে পারবে না। মতাদর্শের দিক থেকে সবাইকে ‘সাদা’ হতে হবে। যারা সাদা হওয়ার চেষ্টা করেনি, সাদা হতে চায়নি বা কখনো সাদা ছিল না, তাদের আমরা কালো বলে ধরে নিতে পারব। আসল কালো এবং আমাদের বিবেচনায় যাদের কালো ধরে নেওয়া হয়, তাদের হাত থেকে এই রাজ্যকে বাঁচাতে হবে। লেখা নেই কোথাও, তবু আমাদের রাজ্যের, বিশেষ করে কয়েক বছর ধরে, মূলনীতি এটাই।
লিস্টের মধ্যে একটা নাম দেখে তবু চমকে যাই। নামটা একজন পত্রিকার সম্পাদকের। তিনি ছোটখাটো, ভদ্রলোক ও সম্ভ্রান্ত চেহারার মানুষ। তাঁকে আমি আসলে ধূসর বলে জানতাম। কিন্তু আমার জানায় কিছু আসে-যায় না। এই লিস্ট আমি তৈরি করি না, আমার বসও না, তাঁরও যিনি বস, তিনি আমাদের সবচেয়ে বড় প্রভুর একদম ঘরের মানুষ, লিস্ট হয় তাঁর অফিসে। কয়েক বছর ধরে কাজ করছি, জানি এখন এসব।